প্রিয় বেকারদের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের প্রতি খোলাচিঠি
খোলাচিঠি
প্রতিটা অভিভাবকের উচিত তাদের প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে বিয়ে দিয়ে দেয়া। চাকরি কোনো মেয়ে বা ছেলের বিয়ের টাইম হতে পারে না। কেননা এই দেশে একটা ছাত্রের চাকরি পেতে পড়াশোনা শেষে প্রায় ৩-৫ বছর লেগে যায়। তত দিনে এই বালক বালিকার বয়স ৩০-৩৫ হয়ে যায়। অথচ জৈবিক চাহিদাকে অস্বীকার করতে পারি না। সুতরাং সাবধান প্রিয় অভিভাবক। আপনার সন্তানকে সঠিক সময়েই বিয়ে দিয়ে দিন।
বিবাহ মহান আল্লাহ তাআলার এক বিশেষ নেয়ামত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত। ঈমানের পূর্ণতার সহায়ক। চারিত্রিক আত্মরক্ষার অনুপম হাতিয়ার। যুবক-যুবতীর চরিত্র গঠনের অন্যতম উপাদান। আদর্শ পরিবার গঠন, মানুষের জৈবিক চাহিদা পূরণ এবং মানসিক প্রশান্তি লাভের প্রধান উপকরণ হচ্ছে বিবাহ। যা প্রত্যেক মানুষের স্বভাবজাত চাহিদা। এ চাহিদা পূরণার্থেই ইসলামি শারিআত বিয়ের হুকুম আরোপ করেছে।
বিবাহ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্তা'আলা বলেন,
তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। যারা বিবাহে সামর্থ নয়, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে যে পর্যন্ত না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেন। [সূরা আন-নুরঃ ৩২-৩৩]
বিবাহ সম্পর্কিত সহীহ বুখারী শরীফের গুরুত্বপূর্ণকিছু হাদিসঃ-
সাঈদ ইবনে আবু মারয়াম (র) ... সাহল (রা) থেকে বর্ণিত যে, একজন মহিলা এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিজেকে পেশ করলেন। এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাকে আমার সঙ্গে শাদী বন্ধনে আবদ্ধ করিয়ে দেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কাছে কি আছে? সে উত্তর দিল, আমার কাছে কিছুই নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যাও, তালাশ কর, কোন কিছু পাও কিনা? যদিও একটি লোহার আংটিও (তা নিয়ে এসো)। লোকটি চলে গেল এবং ফিরে এসে বলল, একটি কিছুই পেলাম না এমনকি লোহার আংটিও না; কিন্তু আমার এ তহবন্দখানা আছে। এর অর্ধেকাংশ তার জন্য। সাহল (রা) বলেন, তার দেহে কোন চাদর ছিল না। অতএব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার তহবন্দ দিয়ে কি করবে? যদি তুমি এটা পরিধান কর, মহিলার শরীরে কিছুই থাকবে না, আর যদি সে এটা পরিধান করে তবে তোমার শরীরে কিছুই থাকবে না। এরপর লোকটি অনেকক্ষণ বসে রইল। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে চলে যেতে দেখে ডাকলেন বা ডাকানো হল এবং বললেন, তুমি কুরআন কতটুকু জান? সে বলল, আমার অমুক অমুক সূরা মুখস্থ আছে এবং সে সূরাগুলোর উল্লেখ করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যে পরিমান কুরআন জান, তার বিনিময়ে তোমাকে এর সাথে শাদী দিলাম। [সহীহ বুখারী, হাদিস নং-৪৭৪৬ ইফা]
[এমন আরো অনেক আয়াত ও হাদিস আছে বিয়ের ব্যাপারে। চাইলে গুগোলে সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন।]
কোন মন্তব্য নেই