আমি কেন ধর্মান্ধদের ঘৃণা করি
ফেসবুকের স্ট্যাটাস থেকে
যে বা যারা অন্ধভাবে ধর্মকে বিশ্বাস করে আমি তাদের প্রচ- রকম ঘৃণা করি। যারা অন্ধভাবে সিস্টেমকে অনুসরণ করে, সিস্টেমের দালালি করে আমি তাদেরকেও ঘৃণা করি। যারা মৌলবাদী মন নিয়ে সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে বিভেদ সৃষ্টি করে, মানে যারা সাম্প্রদায়িক আমি তাদেরকেও ঘৃণা করি। যারা যুক্তির চর্চা করে ও যারা মানবতাবাদী আমি কেবলি তাদেরকেই ভালোবাসি। তা আমার চিন্তার বিপরীত হলেও আমি তাদের বুকে জড়িয়ে নেই। সুতরাং ধর্মান্ধ, সিস্টেমের দালাল, দাঙ্গা সৃষ্টিকারী মৌলবাদী আমার থেকে দূরে থাক, আমিও তাদের থেকে দূরে থাকি। তোমার জন্যে লানত কামনা করি না, তোমার জন্যে আমার করুণা হয়। যুক্তির এই দুনিয়াতে তুমি তোমার আত্মাকে মুক্ত কর। তুমি মানবিকতার পক্ষে আসো।
প্রশ্ন হলো বিশ্বাসকে কিভাবে যুক্তি দিয়া ব্যাখ্যা করা যায়?
কথা হলো মুল বিষয় গুলো বোঝার জন্য আমরা কতটা সময় দেই সেটাই প্রশ্ন। খারাপটা অপছন্দ করি ঠিক আছে কিন্তু ভালটা ঠিক ভাল মত জানি না ।
মৌলবাদের পলিটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেশান আছে। আমার আলাপটা তার একটু দূরে অন্ধ বিশ্বাস নিয়ে। বিশ্বাসকে যুক্তি দিয়েই মানুষ গ্রহণ করে। অদৃশ্যের উপর বিশ্বাস এমনি এমনি তৈরি হয় না। মানুষের মনের ভেতর যে চেতনা সেই চেতনার অন্তর্গত একটা সক্রিয় রুপ ও যুক্তি থাকে। ব্যক্তি তার নিজের সাথে সেই যুক্তির খেলায় অবতীর্ন হন ও বিশ্বাসের দিকে যাত্রা করেন। যুক্তিটা তার চিন্তাকে প্রভাবিত করে এবং ব্যক্তি বিশ্বাসী হয়ে উঠেন। এই বিশ্বাসটা যখন যুক্তির বাইরে থেকে অন্ধত্বের দিক থেকে প্রবল হয় তখন দেখা দেয় সমস্যা। ফলে মৌলবাদীতা তৈরি হয় এবং ব্যক্তি তার নিজস্ব যুক্তির উপর উঠে আবেগী অবস্থা গ্রহণ করেন ও সাম্প্রদায়িক হয়ে উঠেন।
সিস্টেম। পঁচা গলা তখনই হয় যখন হুজুর হুজুর করে সিস্টেমের পাশের মানুষজন। এইসব সিস্টেমের দালালদের সিস্টেমের প্রতি অন্ধ বিশ্বাসই সিস্টেমকে পঁচায়। আমরা যদি সিস্টেমের সমালোচনা করতে পারি তাহলে সিস্টেমের পাশে থেকেই সিস্টেমকে পরিবর্তন করা যায় বলে আমার বিশ্বাস।
সবাই সময় দেয় না। কিছু মানুষ থাকে যারা সময় দেন। তারা জানেন বোঝেন। যেই বিষয়গুলোকে আমরা অপছন্দ করি তারো একটা কারণ থাকে। ঠিক জেনে আমরা করি না তাও নয়। বেড়ে উঠতে উঠতে চলতে চলতে আমরা অনেক কিছুই জেনে যাই। সেটাই যথেষ্ট হয়।
যথেষ্ট শব্দটা তে আপত্তি আছে, আপত্তি থাকতেই পারে। এটা চেনা জানার পথটাকে বন্ধ করে দেয় কিছু কিছু ক্ষেত্রে, কিন্তু সম্পূর্ন নয়।
যে কারো আপত্তিটা ঠিক আছে। কিন্তু প্রাথমিক ধারণাটা চলে আসে। আর সেই আগ্রহ থেকেই যথেষ্টটা ছাড়িয়ে এগিয়ে যাই যেতে হয়। সেই জন্যেই আমার যথেষ্ট বলা।
তবে সিস্টেম? নাকি প্রচলিত পঁচাগলা সিস্টেম? প্রচলিতকে উৎখাত করে নতুন সিস্টেম আনতে হবে। তাছাড়া হাতে থাকে কেবলই নৈরাজ্য তা শেষ পর্যন্ত প্রচলিতেরই লাভ হয়।
আমি ধর্মকে ভালোবাসি। আমি ধর্মীয় বিধানে বিশ্বাস করি। আমি মৌলবাদী। আমাকে প্রচ- রকম ঘৃণা করুন। আমাকে দূরে রাখুন।
আপেক্ষিক শব্দটা দারুণ একটা শব্দ। আপনি অনেক জায়গাতে বসিয়ে দিয়ে আলাপটাকে মেরে দিতে পারেন। এখানেও সফল হয়েছেন। যুক্তি ও মানবিকতা আপেক্ষিকতার সূত্রে না তোলাই ভালো, তাহলে আর যুক্তির প্রয়োজন থাকতো না। বিশ্বাসটা আপেক্ষিক হলেও যুক্তি ও মানবিকতা আপেক্ষিক নয়।
ধর্মকে যারা ভালোবাসে, যারা বিশ্বাস করে তাদের সাথে আমার কোনো দ্বন্দ্ব নেই। কিন্তু যিনি মৌলবাদী তাকে আমি অবশ্যই ঘৃণা করি সে যেই হোক।
‘মৌলবাদী’ শব্দের ব্যবহারের ইতিহাস জানা দরকার। এটি কোন আওয়ামী শব্দ না; কিছুটা বঙ্কিমীয়; কারো গুরুমস্তিষ্কের গুরুত্বের চেয়ে গুরুতর হতেই পারে!
মৌলবাদীতা কি তার ইতিহাস কি সেই আলাপে এখন আর যাবো না। কেননা এই আলাপ এইখানে প্রাসঙ্গিকও নয়। মৌলবাদীতার রুপ ইতিহাস থেকে দেখে নেয়া ভালো।
| মাসুম মুনাওয়ার : ২০১৫ |
কোন মন্তব্য নেই