চলে গেলো জীবনের ষাটতম ঈদ
জীবনের ষাটতম ঈদ পালন
এই বছর আমার তিরিশ হলো। তিরিশ বছরে মাত্র দুইটা ঈদ বাড়ির বাইরে মা বাবাকে ছাড়া করেছি। একবার তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় ক্যাম্পাসে ঈদ করেছিলাম। এইবার দ্বিতীয়বারের মত ঈদ করলাম। আমার জীবনের ৬০টি ঈদের মধ্যে দুইটি ঈদের মাঠ আমি পড়তে পারি নি। একটি ঈদের মাঠ না পড়ার কারণ ছিলো সারারাত মহাভারত পড়েছি। সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারি নি তাই মাঠও পড়তে পারি নি। দ্বিতীয় ঈদ মানে আজকেও মাঠ পড়তে পারি নি। কারণ গত রাত আল্লামা ইকবালকে নিয়ে শঙ্খ ঘোষের ‘ইকবাল থেকে’ পড়েছি। পড়তে পড়তে সকাল হয়ে গেছে। সকালে ঘুমাইলাম। মাঠের সময়ে উঠতে পারি নি। তাই মাঠও পড়তে পারি নি।
ঈদটা বেশ মজায় কাটলো। বন্ধুবর মারুফ আতিক ও ছোট ভাই আবির সোহাগ। তিনজনে মিলে সকালে কোলাকুলি করে কাটালাম। আতিক তার মামার বাসায় গেলো। আমি আর বাড়ির গেলাম কবি শামীম রেজার বাসায় দাওয়াত খেতে।
চমৎকার সময় কাটলো কবি শামীম রেজার বাসায়। আমরাই প্রথম গেলাম। স্যার বাসায় নেই। ভাবী গেট খুলে দিলেন। আমরা গেলাম। কিছু সময় পর স্যার বাসায় আসলেন তার বন্ধু এনাম ভাইকে সাথে নিয়ে। উনি বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করেন। উনার সাথে কথা হলো দেশের হাল-চাল ও রাজনীতি নিয়ে।
আলাপ করতে করতেই উপস্থিত হলেন গল্পকার মামুন রশীদ, অনুবাদক অধ্যাপক আহমেদ রেজা, অধ্যাপক অনিরুদ্ধ কাহালী, গল্পকার হামীম কামরুল হক, মামুন স্যারের ভাই। আড্ডা জমতে শুরু হলো। আমি আর আবির শুনছি বেশি বলছি কম।
কাহালী স্যার সুন্দর গল্প করেন। তার গল্প শুনলে মুগ্ধ হতে হয়। এবার তিনি ছাত্র থাকাকালীন সময়েরর গল্প করলেন। গল্প করলেন তার শিক্ষকদের নিয়ে। শামসুল হক স্যার দানীউল হক স্যারকে নিয়ে হলো বিস্তারিত আলাপ। এর মাঝেই হামীম ভাই করলেন মহাভারতের একটি গল্প। [গল্পটি আবার শুনবো]। এভাবেই জমলো ঈদ। আমরা মুগ্ধ স্রোতা। মাঝে মাঝে দুই একটি কথা বলেছি বটে।
আবির চুপচাপ ছবি তুলে। সব থেকে বেশি ছবি তুলেছে শামীম রেজার ছেলে সোহম।
সব মিলিয়ে একটা ভালো দিন গেলো। এখন হলে আসলাম।
আজকে সব থেকে বেশি মিস করছি আমার প্রিয়াকে। যে কিনা আমার প্রতিটা বিষয়ের খোঁজ জানে। যার জন্যে প্রতিটা মুহুর্ত অপেক্ষায় কাটে। সে আমার থে েদূরে। জানি না জীবন কেমন কাটবে আমার। তবে কুহু যদি পাশে তাকে জীবন আমার গতিশীল হয়ে উঠে।
প্রিয় প্রভু পবিত্র এই দিনে আমার প্রার্থণা রইলো- কুহুকে তুমি সুখে রেখো। মিস ইউ কুহু। মিস ইউ গুলঘুলি। লাভ ইউ বুলবুলি। কুউ...............
এখন সাবিহার বাসায় যাবো। সাবিহা খাওয়ার দাওয়াত দিছে। আমার দাওয়াত খেতে ভালো লাগে। যারা এই লেখাটা পড়বেন তারা আমাকে দাওয়াত করবেন। আপনার বাসাতেও যাবো। আলাপ হবে। কবিতা পড়বো। গল্প করবো আমার ্রপমিকাদের নিয়ে। ততক্ষণ ভালো থাকুন।
ঈদ মোবারক সবাইকে।
১৬/০৬/২০১৮
২৩৫, শহীদ রফিক জব্বার হল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। সাভার, ঢাকা। ১৩৪২।
![]() |
| বাম থেকে: শামীম রেজা, আহমেদ রেজা, অনিরুদ্ধ কাহালী ও এনাম ভাই। ছবি তুলেছে আবির |
![]() |
| কবি শামীম রেজা ও আমি |
![]() |
| কাহালি স্যার, এনাম ভাই ও আমি |



কোন মন্তব্য নেই