মহাকালের জিকির
জলবন থেকে কবিতা
মহাকালের জিকির ১অদ্ভুত জীবন গুরু কাটছে ধ্রুব সময়
অর্থহীন কুহকের কথা ভাবছি না
খালি পায়ে খালি গায়ে হাঁটছি আশ^নী চর, দাঁড়কাক অভিমূখ।
কা কা ডাক শুনতেই খবরের কথা মনে হলো
ভাঙে পাড় দীর্ঘ ¯্রােত, শামুকের শিঙ্ শ্রমিকের শ্রম
কারো হৃদ ভাঙে আর আমি ভাবি পর
জেগে ওঠে জলবন পদ্মার ঢেউ।
ভাবনায় আসে কেন ছাইপাশ?
ভ্রম সব স্মৃতি ভ্রম!
পাড় কথা ভাবো মন যেখানে জেগেছে লালন
নদীয়ার নদ ভাবো সহজিয়া পদ
লালনের বাণী জপো প্রেমের গজল।
| মাসুম মুনাওয়ার : নামলিপি |
সাধনায় ডুবে গেলে সংসারের জীর্ণ পাঠ
ভাঙতেই পারে মন উত্তাল কামের টানে।
সংসার বিলাসী কেউ ভাবনায় মজে গেলে
পায় যদি নীল আলো তবে কেন দূরে ঠেলো গহীন জীবন?
গহনের বনে একা দিশাহীন পথচারী
ফিরতেই পারে ঘাটে ধ্যানের আঁচল ছুঁয়ে।
গোয়ালার দুধ গাই সাথে নিয়ে চুপচাপ তবু যদি চাষ হয় অভাগার পতিত জমিন।
তবে কেন,
কোন দোষে কালি মাখো অবলার গায়ে!
| নামলিপি: আল নোমান |
মহাকালের জিকির ৩
শালিখের কোলাহলে আকাশের আঙিনায়
চুপিসারে নামে ভোর।
জল জুড়ে ঝিকিমিকি প্রবাহমান দুপুর
জোছনার ¯্রােতে চলে ভাটা অভিমুখ।
সুতা বুড়ি পথ ভুলে পাড়াময় ঘুরে ঘুরে
জীবনের নাক কেটে অবিরত নামে ঢল।
স্বপন সাজায় কেউ আকাশী মেঘের আঁড়ে
আমি পথ চেয়ে রই রঙিন আগামি।
বিজলির অহংকারে ভাসলে আঁচল
মগ্ন হৃদয় দগ্ধ হয়ে উত্তাল সায়রে তোলে ঢেউ
মহাকালের জিকির।
দিল্ কাবা খিল্ খুলে ডুব পারে পানকৌড়ি,
মজে তার সুক্ষ্ম ঠোঁট তৃপ্তির ঢেকুর তোলে।
![]() |
| আল নোমান |
যৌবন ফুরিয়ে এলে সোহাগ গড়িয়ে নামে আবেগ।
সময় ঘনিয়ে গেলে রাতের চাদর গায়ে পৃথিবীর আঙিনায়
হুটহাট থেমে যায় বিকেল।
যে যার মত আমরা আত্মাগুলো বিক্রি দিয়ে
ঘুমের আশায় দিনগুনি।
চুপচাপ ইতিহাস তড়িঘড়ি দুনিয়ায়
শামানা গুছিয়ে নাওÑ পুঁজি।
সময় ঘনিয়ে এলো দহনের দীর্ঘ রাত
যাও অনন্ত সময় আমরা আসছি সব
তারপর একদিন ঠিকঠাক গুজরান
পৃথিবীর যাত্রা নিলামে উঠিয়ে
সময়ের অবসান।

কোন মন্তব্য নেই