Header Ads

আত্মহত্যা বা নির্জনতার গল্প ।। মাসুম মুনাওয়ার

গল্প :



তেতুলিয়া থেকে ঠিক পুব দিকে নবাবপুর তিন কিলো পাকা রাস্তা। রাস্তার দুই পাশে পানি। রাস্তার ডান পাশে কিলো দুই দূরে একটা বিশাল হিজল বন। বাম পাশে দেড় কিলো দূরে হিজলডাঙা গ্রাম।  একটা ছেলে আর একটা মেয়ে হেটে চলেছে তেতুলিয়া থেকে নবাবপুরের দিকে।


ছেলেটির হাতে একটা মোবাইল। মেয়েটির হাতেও। দুজন নিরবে হাটছে। কেউ কারো সাথে কথা বলছে না। চুপ। একেবারে নির্জন পথ। রাস্তায় মানুষ বলতে তারা দুজন।

তেতুলিয়া আর নবাবপুরের মাঝামাঝি স্থানে একটা উঁচু স্লুইচ গেইট। রাস্তা থেকে স্লুইচ গেইটের উচ্চতা অস্বাভাবিক। কথিত আছে এই ব্রীজটি তৈরী করার সময় একটি মানুষ দিতে হয়েছে। এছাড়া নাকি ব্রীজটি করা অসম্ভব ছিলো।

ছেলেটি বা মেয়েটি কারো একথা জানার কথা না। কেননা তারা এই এলাকার নয়। এবং তারা আজই প্রথম এখানে এসেছে। তাদের সাথে স্থানীয় কারো কোনো কথাও হয়নি।

তারা চলছে একে অন্যের সাথে নিরবতা রক্ষা করে। রাস্তার দুপাশের পানি পিচ ছুঁইছুঁই। রাস্তার পাশের মাটি পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। এমন জায়গা ওরা দুইজন আর কখনো দেখেনি।

ঠিক দুপুরের সময় তারা স্লুইচ গেইটে এসে পৌঁছেছে। তখন ওদের মাথার উপর দিয়ে হিজলডাঙা থেকে উড়ে আসা একটা দাঁড়কাক হিজলবনের দিকে উড়ে গেলো। ছেলেটি গ্রামের দিকে মুখ করে রেলিঙে উঠে বসলো। আর মেয়েটি হিজলবনের দিকে।

তখন মেয়েটি বলল একটা ছেলে একটা মেয়ের সাথে প্রেম করে। ছেলেটি বলল একটা মেয়ে একটা ছেলের সাথে প্রেম করে। আর তখন একটা মোবাইল পানিতে ডুবে যায়। আর একটা মোবাইল নিচে পরে অকেজো হয়ে পরে।

মেয়েটি দূরে হিজলবনের দিকে একটা নৌকা দেখে । আর হিজলডাঙা থেকে একটা ডাক আসে ছেলেটির কানে। নামো না হয় মৃত্যু নিশ্চিত। ছেলেটি মেয়েটির দিকে তাকায় আর বলে একটা ছেলে একটা মেয়ের সাথে প্রেম করে। একটা মেয়ে একটা ছেলের সাথে প্রেম করে। আর তখন একটা মোবাইল পানিতে ডুবে যায়। আর একটা মোবাইল নিচে পরে অকেজো হয়ে পরে।

পরদিন সকালে নবাবপুরের কাছাকাছি দুটি লাশ পাওয়া যায়।



[২০.৩.১৬]


ছবি: তসলিম হাসান, ২৩৫ শহীদ রফিক জব্বার হল, 

কোন মন্তব্য নেই

enjoynz থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.