Header Ads

সূর্যকুসুম থেকে কবিতা

সূর্যকুসুম থেকে কবিতা


[সূর্যকুসুম আমার প্রথম কবিতার বই। দ্বিতীয় পান্ডুলিপি। বইটির প্রথম মুদ্রণ আপাতত শেষ। সাম্প্রতিক সময়ে এটির দ্বিতীয় মুদ্রণ প্রকাশের সম্ভাবনা খুব কম। তাই অনলাইনে সকলের জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়া হলো। পাঠপতিক্রিয়া জানাতে পারেন। পাঠপ্রতিক্রিয়া, আলোচনা বা সমালোচনা এই সাইটে প্রকাশ করা হবে। লেখক।]


প্রকাশকাল
একুশে বইমেলা ’১৬

গ্রন্থস্বত্ব
আল হেরা পাঠাগার

প্রচ্ছদ
চারু পিন্টু

পরিবেশক
চিরকুট (দ্রোহ ও ভালোবাসার পত্র),  জাবি

প্রকাশক
ষোলপৃষ্ঠা প্রকাশন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা-১৩৪২।
মুঠোফোন: ০১৯২৮০১৪৮৫৯, ইমেইল: sholpreshtha@gmail.com

মুদ্রণে
বন্ধন প্রিন্টিং এ- প্রেস, শাহীবাগ, সাভার, ঢাকা-১৩৪২

মূল্য
১২০ মাত্র

SURJHOKUSHUM
A Collection of Poems by Masum Munawar
Published by Sholoprishtha Prokashon, Jahangirnagar University, Savar, Dhaka-1342.
1st Edition 2016. Price: Taka 100.00 Only.

ISBN: 978-984-34-0330-8


--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

উৎসর্গ
কবি রইস মনরম
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

কৃতজ্ঞতা
এই গ্রন্থের সাথে যাঁরা সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তাঁরা হলেন- শামীমা সুলতানা অনু, তসলিম হাসান, সুদীপ্ত শাহাদাত, আনিস শিশির, আনজুম সানি, সা’দ শারীফ,  নাঈমুল আলম মিশু, জুলফিকার রবিন, হাসান মেহেদী, সুজন বাড়ৈ ও উজ্জল ভাই।

মাসুম মুনাওয়ার
২৩৫, শহীদ রফিক-জব্বার হল 
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
২৬ জানুয়ারি ২০১৬
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

সূচীপত্র

কবজ্
শিকারি শকুন
প্রতিবেশির অধিকার চাই
সংবিধান
বিকলাঙ্গ স্বপ্ন
সংসার
ফানুস
কিয়ামত
সার্কাস
সূর্যকুসুম
হার-জিত
লেলিহান শিখা
অভিমান
ব্রা
প্রোফাইল
বড় হওয়ার ভয়
লালফড়িং অথবা একটি বাস
গিট্টু
লোরমা
আবরণ
ভাঙন
সভ্যতার পিতা
টান
বিকারগ্রস্ত শব্দগুচ্ছ
মধ্যবিত্ত
শুয়োর অথবা মানুষ
চলুন আমরা অপমানিত হই
মায়াকান্না
বসন্ত
ঘর
ছাব্বিশ
যাত্রা
অধরা
আমার শেষ ঈশ্বর
স্বপ্ন
বহুগামিতার সূত্র
হিজল বনের চিঠি
চুমু
ক্রাশ
জংলা সমাবেশ
নিঃসঙ্গ বাদর

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------


অমাবস্যার অন্ধকারে হারিয়ে গেলে গ্রাম
জোনাকির আলোয় ছিঁড়ে যায় রাত্রির বাঁধন
তখন পোকাদের সুরেলা সানাই-এ জেগে ওঠে মুখরিত বন
ঝিঁঝিঁ পোকাদের চিৎকারে ভেঙে যায় ভবিষ্যতের সোনালি স্বপন।

আর স্বপ্নহারা জাতি চলে অন্ধকার বন্ধুর পথ।

[১৬.০৮.০৯]




বৃষ্টিকে ভালো কে না বাসে?
খুপরি ঘর থেকে অথৈ শহর
বৃষ্টির সাথে গল্প পাতে নিন্ম-মধ্য-ঊচ্চবিত্ত মন
কেউ ছুঁয়ে দেয় বৃষ্টি, বৃষ্টি ছুঁয়ে দেয় কেউ।

[১৭.০৮.০৯]


কবজ্

অজস্র কষ্টের বিনিময়ে কবি জন্ম দেয়-
একটি শিশুকবিতা
কোলে-পিঠে করে নবজাতকের মতো
গড়ে তোলে পরম যত্নে

একদিন কবিতা সত্যিই বড় হয়
মুক্ত কণ্ঠে কথা বলে
মাটি, মানুষ ও মানচিত্রের।

কবিতার কবজ্ রুখে দেয়
হায়েনার নৃশংস অপঘাত
কখনো বা ভালোবাসার ছোঁয়ায়
শীতল করে ব্যথিত হৃদয়।

[১৬.১২.০৯]




দুই হাজার সাতদিন পর নির্জন বনে মিলিত হলে দুটি চড়ুই-
বন জুড়ে নামে বৃষ্টিপাথর।
পাখির কোলাহল ছেড়ে ঝিমোয় শহর
শাদা গোলাপের খোঁজে কেউ যায় হিমালয় চূড়া;
স্বপ্নেরা খুঁজে ফেরে কদাকার মানুষ।

[১৭.১২.০৯]


শিকারি শকুন

প্রগতিশীল ফ্রেমে আবদ্ধ জানু
গলায় চৌদ্দগিটের পেঁচানো রশ্মি
কণ্ঠে এঁটে দেয়া রাষ্ট্রীয় কুলুপ
সাজানো খাঁচায় বন্দি প্রিয়তমার চুমু
তিরবিদ্ধ সবুজহাসি
রক্ত ছাড়া কোনো খাদ্য নেই
অবশিষ্ট রক্তাংশ চেটেপুটে খায় ধূর্ত শেয়াল
আঙিনায় ধ্যানমগ্ন শিকারি শকুন।

২.
অস্ত্র, অত্যাচারের লাইসেন্স তোমার
আমার দুহাতে হাত কড়া, পায়ে বেড়ি
গলায় পেঁচানো ফাঁসের দড়ি
কণ্ঠে তোমার এঁটে দেয়া কুলুপ।
তোমার সাজানো খাঁচায় বন্দি আমার আত্মা, দেহ
আমি তিরবিদ্ধ ডানা ঝাপটানো পাখি, ঘুঘু
আমার রক্তই এখন আমার খাদ্য
তিরবিদ্ধ ক্ষতস্থানের রক্ত চুষে খাই
আমি, আমিই আমার শিকারি শকুন।

[২০১০]


প্রতিবেশির অধিকার চাই!

মুক্তি আমি চাই না, চাই প্রতিবেশির অধিকার
ট্রানজিট-বন্দর-সীমান্তহাট
চোরাচালানের ন্যায্য অধিকার চাই
এই অধিকার মৌলিক, এই অধিকার ন্যায়ের
আমার চিকিৎসা বন্ধ থাক, তবু আমি মানবতাবাদী
প্রতিবেশির অধিকার চাই-ই চাই।

সীমান্তে অবাধ খুনের বৈধতা চাই
চাই প্রতিবেশি আমাকে দেখভাল করুক
আমার আকাশে প্রতিবেশির ঘুড়ি ওড়ানোর স্থান চাই
এ-অধিকার মৌলিক, এই অধিকার মানতেই হবে।
আমার পাহারাদার কুকুরগুলোকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিতেই হবে
হাজার গুলিতে ঝাঁঝরা হলেও যেন রাইফেল অবনত রাখে
মৃত্যুর আগেও যেন শেষ স্যালুট হয় প্রতিবেশির প্রতি

আমি চাই প্রতিবেশির প্রতি একান্ত ইবাদতের সুযোগ
যাতে নিশ্চিন্ত হবে আমার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন
আমার এ-দাবি মানতেই হবে
এ-দাবি মৌলিক

সকল আশংকা দূর হোক
নির্ভীক মনে সবাই মেনে নিক
প্রতিবেশির অধিকার রক্ষার দাবি, মজলুম জনতার দাবি
এ-দাবি মৌলিক দাবি
এ-দাবি মানতেই হবে।

[২০১০]


সংবিধান 

সংবিধান! সে তো অন্ধের বাইবেল
যা বিশ্বাস করলাম প্রতি মুহূর্তে;
অথচ সে আমার ভাগ্য সম্পর্কে উদাসীন

সময়ের বিবর্তনে আমি আবার জাগবো
বেহেশ্তি হাওয়ায় অত্যাচারীর মঞ্চ ভেঙ্গে
পবিত্র নহরের পানিতে
ধুয়ে দেব সবুজ ভূমি
নতুন ঘাসে শাসক হবে বঞ্চিত রাখাল।

[২০১০]


বিকলাঙ্গ স্বপ্ন

ইদানিং চোখ মেলে তাকাতে পারি না
মগজে কিটকিট করে জ্বালা হয়- মৃত্যুর ছটফটানি

গোঙ্গানির শব্দ, বিদঘুটে গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসে
চোখে অন্ধকার দেখি
লালচে লালায় বালিশ ভিজে ওঠে

দুঃস্বপ্নে ভেসে ওঠে কুকুরের নির্লজ্জ সঙ্গম
কপোতির ডানা ঝাপটানো হাসি
তখন বাঁ চোখের কোণে জমে ওঠে
এক নীল গরম রক্তের ফোঁটা।

[০৩.০৭.১১]


সংসার

আমি এক নিবহীন লালকলম
লিখতে গিয়ে দুঃখ- জর্জরিত শূন্য পকেট

কলমের দুঃখে নিবের কিছু যায় আসে না

নিবহীন কলমের কালি
আরো কালোকিত করে চারদিক
নিব মুক্ত, স্বাধীন
এই বরং শান্তির আনন্দের

সময়ে নিব এবং কলমের সুখ ছিলো-
আনন্দ উচ্ছ্বাসে চাঁদহাসির সংসার

অথচ এখন
‘চিনি না’ শব্দটাই নিবের বেশি প্রিয়

আক্ষেপ
এক সময়তো পূর্ণাঙ্গ কলম ছিলাম!

[১০.০৭.১১]


ফানুস 

সত্যের বার্তাবাহক
নিষ্পাপ শিশুর মুখে ফোটাতে একটুকরো হাসি
শান্তির বার্তা নিয়ে আসবে তো!

জেগেছে ক্যাডেট উল্লাসে উল্লাসে
মুখরিত পৃথিবী সাজবে আজ- প্রস্ফুটিত রজনীগন্ধা

লেফ্ট রাইট, লেফ্ট রাইট
বেজে ওঠে বাঁশির সিগনাল
পায়ে তাল রেখে চলে ক্যাডেট
ভেঙ্গে দিতে সব জঞ্জাল।
ক্যাডেটের প্রতিটি কদম সাজায়
সত্যের প্রাচীর ঘেরা পথ।

ফানুস উড়িয়ে কবুতর উড়িয়ে
হতাশার বেলুন উড়িয়ে দিল আজ
নতুন করে হলো শুরু এ যাত্রার।

[২০.০১.১২]


কিয়ামত

একটি কবিতা লিখছি বলে
সহস্র ঘন্টা সাঁতরে বেড়াই শব্দের সাগরে

কখনো খুঁজে পাই
‘প্রেম-যুদ্ধ-নিপীড়ন-ক্ষুধা-প্রকৃতি-মানুষ।’

কখনো ভেসে ওঠে
‘দুর্নীতি-অভাব-বৈষম্য-খুন-আনন্দ-যাতনা।’

অথচ সবই লেখা হয়ে গেছে কবিতার পাতায়
বাকি শুধু একটি শব্দ- ঈশ্বরের সিদ্ধান্ত।

[১৭.০২.১২]


সার্কাস

কোকিলের কুহু কুহু ডাক
মুকুলের সুঘ্রাণে জেগে ওঠে প্রাণ

ফরমালিন দেয়া মিথ্যেগুলো
তেলছটা রংয়ের মতো লেপ্টে থাকে
প্রতিটি চরিত্রে
আমি হয়ে উঠি সোনালি সার্কাস।

[১০.০৩.১২]


সূর্যকুসুম

লালে লাল নেশায় মত্ত জীবন
ফিরে চাই সবটুকু আলো- সূর্যকুসুম
কবিতা অথবা নারী
সূর্যের মিহিন রোদে
পান করে যাবো বিনাশী হেমলক।

[২০১৩]


হার-জিত

পরাজয় নিশ্চিত জেনেও
যুদ্ধে যাবো নিরস্ত্র সৈনিক
কেননা প্রতিদিন কামনা করি
তোমার বিজয়।

[২২.৯.১৩]


লেলিহান শিখা

মুখের লালায় মুছে যায় কানকাটা দাগ
লিপ্স্টিকে সুসজ্জিত গা
মোলায়েম হাতের স্পর্শে বিদ্যুৎ চমকায়
জিহ্বার উষ্ণতায় পুড়ে যায় ঠোঁট
তুমি চুষে নাও সমস্ত আগুন- লেলিহান শিখা।

[১.১.১৪]


অভিমান

দিনভর রাতভর অভিমান, সেকেন্ডে সেকেন্ডে অভিমান
সময়ের ধ্রুব ব্যবহারিক নিময়ে অভিমান উপছে উঠে

গন্তব্যহীন অভিমানের ভেলায় ভেসে যায় মহাকাল
পরিণত রাজ্যের অভিমান নিয়ে কেটে যায় অবর্ণিল সময়

মানবিকতার সরলরেখায় জীবনের খেলা জমে উঠলে
সংসারের সামাজিক অভ্যর্থনা শেষ করে সন্ধ্যা নামে দিগন্তপথ

কোনসুটি আর দৈনন্দিন ঝগড়ার পাঠচুকে জমে উঠলে বরফ
ভালোবাসার টানে গলে যায় হিমালয় পর্বত।

[২৩.৭.১৪ ]


ব্রা

দুর্বল পুরুষ আমি
একটা ব্রা-ই পালটে দেয় আমার স্বপ্ন

ব্রার মাঝে শরীর খুঁজি
আমার শিশ্ন কথা বলে ওঠে
কৌতুহলী হয়ে ওঠে শিরা-উপশিরা

আমি অবসন্ন নিথর দেহে
ব্রার ক্ষমতা দেখে চমকে উঠি
ভাবি ব্রা দেবী না ঈশ্বরী!

[২৪.৭.১৪]


প্রোফাইল 

তোমার প্রোফাইল পিকচার
আমার ঘুম
আমার নিদ্রাভঙ্গ

অপলক চেয়ে থাকি ল্যাপটপ স্ক্রিনে
খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখি তোমার চোখ-মুখ-বুক-ঠোঁট
সারা অঙ্গ দেখি তোমার

হাসিতে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে
বাঁকা চাহনিতে আটকে যায় দম
আমি অপলক চেয়ে থাকি ল্যাপটপ স্ক্রিনে

লালায়িত ঠোঁট শরীরে কাঁপুনি তোলে
একটু পাওয়ার আশায় ইবাদতে মশগুল।

[৭.৮.১৪]


বড় হওয়ার ভয় 

জীবন বড় কঠিন
সময় চলে যায়; জীবনের অভিজ্ঞতা বাড়ে।
আমার বয়স ঠায় পড়ে থাকে
আমি শিশুর মত বেড়ে উঠি

আমাকে স্পর্শ করে বড় হওয়ার ভয়
আমি পৃথিবী দেখি শিশুর চোখে

[১০.৮.১৪]


লালফড়িং অথবা একটি বাস

বাস চলে গেলো লালফড়িংয়ের ডানায়
লাল ফড়িং উড়ে গেলো দূরপাল্লার বাসে
কোনো এক কৃষ্ণচূড়া ডালে সীমান্তের কাছাকাছি
স্তব্ধ হয়ে রয়ে গেলো চাকা ও তোমার স্মৃতিচিহ্ন
সাইলেন্সারের আগুনে পুড়ে গেল ঘাস নিভৃতে নিরবে

রক্তে গন্ধে ঢেকে গেলো কাদামাটি, পানি
কৃষ্ণচূড়া ঝরে পড়লো তক্তপোশে, রাস্তায়
বিকট শব্দে উড়ে গেলো কর্কশ কাক
ধোঁয়ায় মুছে গেলো অবশিষ্ট স্মৃতিচিহ্ন

বাস চলে গেলো লালফড়িংয়ের ডানায়
বীরদর্পে সবুজ গালিচা চাপিয়ে নিশ্চিন্ত লাল প্রান্তরে

দিশেহারা পথিক
চেয়ে থাকে অপলক শূন্যে, মহাশূন্যে
অতঃপর চোখের কোণে একফোঁটা জল
এবং লাল মরীচিকা বাস।

[৯.৯.১৪]


গিট্টু

বুদ্ধি ও শরীরের মেদ বেড়েই চলেছে
মেদ কমাতে দৌড়াই একশ মাইল
ঘাম ঝড়াতে পারি না একফোঁটা
বুদ্ধির মেদ জট পাকায় খুলতে গেলে
আটকে যায়, জট থেকে গিট্টুতে রূপ নেয়
আমি অসহায় হয়ে যাই তোমার পাশে

সেকেন্ডে ঘেমে উঠি, মিনিটে গোসল
ঘন্টায় সাঁতরাতে থাকি
কাঁপা রোগ হয়, তুমি হাসো

আমার পৃথিবী ছোট হয়ে আসে
আলোতে অন্ধকার দেখি, অন্ধকারে অথৈ সাগর
তুমি ফিক করে হেসে ওঠো
লজ্জায় মরে যাই আমি, বুদ্ধির মেদ বাড়তে থাকে
আমি আরো অসামাজিক হয়ে উঠি।

[১৬.৯.১৪]


লোরমা 

শিউলিবালা, ফুটন্ত লালপদ্মের মত তোমার নাভিমূলে
আমার একবিন্দু ঠাঁই হবে ভেবে জেগে ওঠে প্রাণ

নতুন বইয়ের মত ভাঁজপড়া তলপেটে গন্ধরাজের সুবাস
আমার শিশ্নের শিরা-উপশিরা উত্তেজিত করে তোলে

তোমার সবুজ পিঠের জমিনে ছড়িয়ে আছে সোনালি ধানের মত তিল
আর আমি অন্যের আসমান জুড়ে খুঁজি তারার আলো!

স্বগোত্রীয় ভ্রমরে মধু আহরণ দেখে নিজেকে লোরমাচোদা পুরুষ মনে হয়

[২৬.১০.১৪]


আবরণ

একটা আবরণ পরে আছি
একটা খোলস লেগে আছে
একটা ছদ্মবেশ ধরে আছি

সকলেই
একটা ছদ্মবেশ ধরে আছি

সহজ স্বীকারোক্তি করা এখন অসম্ভব
দারোগার বেয়নেটের থেকেও ধারালো প্রেমিকার কথা
ছদ্মবেশই আমার একমাত্র উপায়

প্রেমিকার বুকে হাত রাখলেও আমি সাধুবাবা

[৯.১১.১৪]


ভাঙন

উত্তরসূরির আশায়, অপলক প্রীতিলতা
অথচ চউখ বেয়ে পড়ছে রক্তকণিকা
উইপোকার সংসার বুকে
নূন্যতম সৌন্দর্য সৌকর্যের শ্রী নেই
উন্মুক্ত তর্জনি খসে পড়ছে নিঃশব্দে

স্বগোত্রীয় জাতি উত্তরাধুনিক ঘুমে নিমজ্জিত
একজন প্রীতিলতা একটা উইপোকার পিন্ডি

[১০.১১.১৪]


সভ্যতার পিতা

গতর আমারে চম্বুকের লাহান টানে
রাঁধুনির গতরের আঁশটে গন্ধে বিমোহিত হই
রান্নাঘর থেইকা বাইর হওয়া জবজবে ঘামের শরীল দেইখা
আমার জিভে পানি লকলক করে
সভ্যতার কথা ভাইবা আমি অসভ্য হইয়া উডি
চাঁন-সুরুজের মাঝামাঝি আন্ধারে লীলায় মাইতা উডে কামুকি দ-
আর আমি পরিণত হই সভ্যতার পিতা।

[২৪.০১.১৫]


টান

একপাশে পৃথিবী
একপাশে লাল ঠোঁটের চুম্বন
একপাশে নীল আকাশ
একপাশে প্রিয়ার সোনালি কপোল
একপাশে ক্ষমতা
একপাশে নীলাভ উরু
আমার সব সত্য রমণীর নীলাভ উরু।
চুম্বন, সোনালি কপোল, নীলাভ উরুর পাল্লা-ই ভারি হয় চিরকাল।

[২৪.১.২০১৫]


বিকারগ্রস্ত শব্দগুচ্ছ

কাঠফাটা দুপুরে সন্ধ্যাতারায়
আমার স্বপ্নগুলো নিরবে ঝরে যায়
ঝিরঝিরে বাতাসে শুকনো পাতার মতো
ভেজানো স্বপ্নগুলো একে একে ঝরে যায়
রাতজাগা জোনাকি স্বপ্ন বোনে কী
নেতানো স্বপ্নগুলো কুয়াশায় ধুয়ে খাই
হাড়কাঁপা শীতে উদোম শরীরে
ভেঙ্গে পড়া স্বপ্নগুলো লাগাতার চিবাই
স্বপ্নহীন মনে একাকী বনে সন্ন্যাসী বেড়াই
শূন্য হৃদয়ে একাকী সাগরে ভেলা সাজাই
কাঠফাটা দুপুরে সন্ধ্যাতারায়
তিন চোখের শকুনী আমার স্বপ্নগুলো খেয়ে যায়
আমার স্বপ্নগুলো শকুনী খেয়ে যায়
নিঃস্ব যাযাবর ধূ ধূ বালুচর স্বপ্ন কুড়ায়।

[২৫.০১.১৫]




তিনশব্দের একটা বাক্যে তোমায় ডেকে ছিলামÑ
ভেবেছিলাম সবুজ গালিচা পেরিয়ে তুমি আসবে

বিষাক্ত রক্তকণিকা সরিয়ে জায়গা করেছিলাম
তুমি আসলে, তুমি সত্যিই আসলে ধীরে ধীরে
হিম শীতল পানীয় হয়ে। অবশিষ্ট শূন্য করে।

নিথর দেহের কাজ পলকহীন তাকিয়ে থাকা।

[১৪.২.১৫]


মধ্যবিত্ত 

যত সমস্যা এই মধ্যবিত্তের
এরা উপরেও উঠতে পারে না
নিচেও নামতে পারে না।
আমিও শালা এক মধ্যবিত্ত পুরুষ
না পারি উঠতে, না পারি নামতে
সামাজিক চিপায় পড়া সিদ্ধ গোলাম।

রাখাল হবো ভেবে গরু হয়ে যাই
জীবনের প্রয়োজনে গতর খাটি
পরিবর্তনের বদলে বদলাই মুখোশ
আর জরাজীর্ণ পৃথিবী চলে অন্ধকার গলি।

[২০.২.১৫]


শুয়োর অথবা মানুষ

তিনটি চোখ আছে এমন মানুষ কী আপনি দেখেছেন
যার তৃতীয় চোখটি তার ঠিক কপালের মধ্যেখানে
তিনটি পা নিয়ে দিব্যি হেঁটে যায় এমন প্রাণী কি আপনি দেখেছেন
যার তৃতীয় পাটি তার দুপায়ের ঠিক মধ্যখানে

তিনটি কানওয়ালা মানুষ কি আপনি দেখেছেন
যার তৃতীয় কানটি মুখের ঠিক বিপরীতে
তিনটি হাত আছে এমন জীব কি আপনি দেখেছেন
যার তৃতীয় হাতটি ঠিক বুক বরাবর ঝুলে থাকে
তিন পা, তিন চোখ, তিন কান ও তিন হাতওয়ালা মানুষ আমি দেখেছি
আমি, হ্যাঁ আমি নিজেই তিন কান তিন চোখ তিন পা তিন হাতওয়ালা শুয়োরের বাচ্চা মানুষ

[২২.২.১৫]


চলুন আমরা অপমানিত হই

চলুন আমরা অপমানিত হই
শুকনা ঝরা পাতার মতো আমারে যারা তুচ্ছ ভাবে
আমি তাদের কোনো প্রতি উত্তর দিতে পারি না।
শালা মন এমন বোকাচোদা যে কোনো প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয় না

আমি আসলে মেরুদণ্ডহীন পুরুষ

একজন কবি বলেছিলেন- তুমি এক লোরমাচোদা পুরুষ
ঐদিন প্রতিবাদ করেছিলাম কিন্তু আজ সত্যি নিজেকে তাই মনে হচ্ছে
আশ্চর্য এই জীবন তবু এই অপমানিত হওয়াই ভালো লাগে
- তাহলে চলুন আমরা অপমানিত হই।

[১.৩.১৫]


মায়াকান্না

মায়াকান্নায় দরজা খোলে না
মনের ঘরে কপাট পড়ে চুপিসারে
দুনিয়ার আগুন উল্টো ধরে
ভেতর থেকে পুড়তে থাকে প্রতিটি কোষ
ভেতরের আগুনে বাহির পোড়ে না
ক্ষত হয় হৃদয়, পাকস্থলি
পুড়ে যাওয়া মস্তিস্কে পাগলামি চাপে
হাতে পায়ে চোখে মুখে এমন কী গুপ্তাঙ্গে
বিকৃত মেজাজে ছাটতে থাকে নিজের গুপ্তস্থান
মায়াকান্নায় তবু দরজা খোলে না

[৫.৩.১৫]


বসন্ত

বসন্তে যখন রোদ ঠিক মাথার উপর বসে
তখন ঝির ঝিরে বৃষ্টি আমার সাজানো কোলে
দমকা হাওয়ায় যখন পাতা ঝরে শিকড়ে
আমার বাগানে তখন কলি ফুটে কাণ্ড গজায়
ফাগুনে আগুন আসে চৈত্র নামে মাঠে
অভাগার তরী ডোবে নাও বাঁধা ঘাটে।

অতঃপর নদীর পানি স্বাভাবিক বয়ে যায়
বসন্ত এসে দাঁড় বায় সৌখিন দরগায়।

[৫.৩.১৫]


ঘর

আমাদের গ্রামে নতুন এক ঘর উঠেছে
সাজানো সুন্দর পাকা হাতের কাজ, ঘর
আকাশে যখন মেঘ দেখা দেয়
তখন রংধনু যেমন দেখায় ঠিক তেমন
গ্রামে আমারও একটা ঘর আছে
বাংলোও আছে ছোটখাট
এরপরও লোভ জাগে আমার মনে
তেঁতুল দেখলে যেমন জিহ্বায় পানি আসে
নতুন ঘর দেইখ্যা আমারো মনে লোভের পানি বয়ে যায়
আমি সেই ঘরের মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখি।
পূর্বে হয়তো বসবাস ছিল কারো
এখন শূন্য ফাঁকা ঘর। যাওয়া আসা ছিল আমারো
বড় সাধ জাগে ঘরের মালিক হওয়ার
কিন্তু কী কপাল! ঘরে আমার খাড়ানোর কোনো জায়গা নেই
ঘর আমারে জায়গা দেয় না তার ভিতর
দূরে থাইক্যা টানে, কাছে গেলে চুপ হইয়া যায়
আমার খুব সাধ জাগে ঘরের ভিতর একটু ঘুমাই
নিজের বাংলো বা ঘরে এখন আমার মন টিকে না।
গ্রামে উঠানো নতুন ঘরে মন একটু হুইবার চায়
ঘর, একটু ঘুমাতে দিবে আমায়?
আমাকে একটু জড়িয়ে নিবে তোমার কোলে!
আমার তৈরি ঘরবাংলো ছেড়ে তোমার
ভিতর আমি বাসা বাধবার চাই।

[৫.৩.১৫]


ছাব্বিশ

কোনো এক পয়লা মার্চে পা রাখলাম লাল-সবুজের মাঠে
এক এক করে পেরিয়ে গেলো ছাব্বিশটি বছর
তারই কোনো এক মার্চে গোধূলির সাথে দেখা
ছাব্বিশ বছরেই ঘুরে আসলাম পৃথিবীর চারপাশ

দিনের শেষ আর রাতের শুরুর মধ্যখানে তাঁর বসবাস
আবছা আলো আর মৃদু আওয়াজে তাঁর চলাফেরা

আমি অন্ধকারের মানুষ, দীর্ঘ পথ চলতে অন্ধকারই ভালো
আলোতে আমি পথ চলতে পারি না- দিগভ্রান্ত হই
কথায় আছে না রাতকানা, কিন্তু আমি উল্টো- দিনকানা
তাই নিশাচর প্রাণীর মতো এই পৃথিবীতে ঘুরিফিরি

এমনি এক সন্ধ্যারাতে চলতে শুরু করি
গোধূলিও সেদিন কী মনে করে একটু সন্ধ্যারাতেই বাড়ি ফিরছিল
কা-জ্ঞানহীন মানুষ আমিÑ অপ্রয়োজনেই তাঁকে ডেকে বসলাম
এই যে শুনছেন, একটু বসবেন আমার পাশে
কোনো উত্তর না দিয়ে গোধূলি বসলেন, প্রায় আমার গা ঘেঁষে
কাঁপা সুরে জিজ্ঞাসা করলাম, নাম কী আপনার?
একটু হয়তো হাসলেন, কোনো আওয়াজ হল না
আবছা আলোয় আমি তাঁর হাসিই ভেবে নিলাম
এভাবে কথা চলতে থাকলো একরাত, একবছর রাত

এবার মার্চে আমার পূর্ণ সাতাশ হল
দিনকানা হওয়ায় শুধু রাতেই আমি তাঁকে দেখতাম
মাথা নেড়ে তিনি শুধু মুচকি হাসতেন দু-একবার

আমার পৃথিবীর চলাচল থেমে গেলো
তিনি চলাচল শুরু করলেন আমার শিরা-উপশিরায়
অতঃপর এক দিনের আলো ভেদ করে ছুটলাম গোধূলির পথে
আফসোস দিনাকানা অভিযোগ এখন আমারে কেউ দেয় না

[৬.৩.১৫]




শুভ সূচনার পূর্বেই পায়রা উড়িয়ে দিলাম
দীর্ঘ বাহাত্তর ঘন্টা যতনে রেখে
শুভ সূচনার পূর্বেই পায়রা উড়িয়ে দিলাম

প্রধান অতিথি আসলেন মঞ্চে
মঞ্চে উপবিষ্ট সবাই দাঁড়ালেন
কেউ একজন ঘোষণায় বললেন
চলুন এবার অনুষ্ঠান শুরু করা যাক

দর্শকসারিতে দাঁড়িয়ে আয়োজক বললেন
আজ আপনারা আসুন, কোনো পায়রা অবশিষ্ঠ নেই
পায়রা ছাড়া তো অনুষ্ঠান শুরু করা অর্থহীন, তাই না!
সবাই একসাথে হেসে উঠলেন, কী যে বলেন!
উদ্বোধন করতে কী পায়রা লাগে, বলুন!

এবার আয়োজকের কণ্ঠস্বর শক্ত শোনালো
“শুয়োরের বাচ্চারা এই মুহূর্তে বাইর হইয়্যা যা
আমার অনুষ্ঠান পায়রা ছাড়া অইব না”
দর্শকসারিতে বসে আয়োজকের চোখে
দুফোঁটা লাল কুসুমগরম পানি দেখা গেলো

আয়োজক নিজেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন
এই আয়োজন কেনো করলাম যদিই বা
শুভ সূচনার পূর্বেই পায়রা উড়িয়ে দিব!

[৭.৩.১৫]                                                           




আজ সাতাশ দিন পূর্ণ হলো
নির্দিষ্ট সময় একটাই স্বপ্ন দেখে যাই
কৃষাণের দুধেল কালো গাভীর মত গায়ের রঙ
রোজ রোদে পুড়ে কিছুটা তামাটে আকার ধরেছে
এমনই গায়ের রঙ কোনো মানুষের!
চোখ ফেরানো দায়। অদ্ভুত মুগ্ধতা।
আমি স্বপ্নের প্রতিটি সেকেন্ড নিঃশ্বাসহীন তাকিয়ে থাকি
ধবধবে শাদা দাঁতে মেয়েটি ফিক করে হেসে ওঠে
বাঁচতে নিঃশ্বাস নেয়ার প্রয়োজন পড়ে
কোনো কথা না বলেই মেয়েটি চলে যায়
মেয়েটির হাতে সাতাশটি টকটকে লালগোলাপ
মনে হয় কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে তুলে আনা।
আমি স্বপ্নের ব্যাখ্যা খুঁজতে খোয়াবনামা উল্টাই
কোনো ব্যাখ্যাই আমার মনপুত হয় না।

এ-বছর পয়লা মার্চ আমার সাতাশ পড়লো
তাহলে কি সাতাশটি গোলাপ অতিক্রান্ত সাতাশটি বছর
না। কথা ছিল সাতাশটি গোলাপ হাতে গোধুলি আসবে
কোনো এক কুয়াশাচ্ছন্ন সন্ধ্যায় গোধুলি বলেছিলো-
‘দেখো, এবার তোমার জন্মদিনে সাতাশটি গোলাপসহ আসবো।’
মার্চ চলে যায় সাতাশটি গোলাপ হাতে গোধুলি আসে না
গোধুলিরা কবির কবিতা ভালোবাসে কবিকে ভালোবাসে কী?

[১৪.৩.১৫]


যাত্রা

বাস্তবিক যাত্রায় অভিনয় শেষ হলে জীবনের যাত্রা শুরু

বাস্তবিক যাত্রায় আনকোরা অভিনেতা
জীবনের যাত্রায় উচ্ছ্বিষ্ট যাত্রী
মারপ্যাঁচ বোঝা বড় দায়

জীবন বা বাস্তবতার পথে অভিনয়
নায়ক খলনায়ক জোকার শিল্পীর বোধ

বোধের জগতে প্রশ্ন উঠে রকমফের
যাত্রার মঞ্চে জীবন আর বাস্তবতার দেখা মিলে
বোধের পাঠে নামে অস্তগামী সূর্য।

[৪.৪.১৫]




রাত গভীর হলে স্বপ্ন ঘাড়ে চেপে বসে
অতঃপর ঘামে ভেজা চাদরে হাত মুছে সকাল।

[১০.৫.১৫]




মানুষের কথা শুনে আমি অবাক হয়ে যাই
মানুষ আমার কথা শুনে কেঁদে ফেলে
তারপর মানুষ আর মানুষ বুকে বুক মেলায়
অমানুষেরা পলকহীন চেয়ে থাকে।

[১২.৫.১৫]


অধরা 

শুভ্র গাঙচিলের মতো চিবুক
সমুদ্রের ফেনার মতো উথলে ওঠা রূপ
অপরূপ
অধরা
অপরূপ।

[৪.৬.১৫]




মধ্যরাতে তুই ডেকেছিলি শুদ্ধতম স্বরে
আমি গভীর ঘুমে সাগর পাড় হচ্ছিলাম
ঘুমে সাঁতরানো সে কী ভীষণ যন্ত্রণা!
শীতল নরম নোনা পানিতেই ঘাম ঝরছিল গলগলিয়ে
সাঁতার তেমন জানি না আমি
তবু কেমন বোকার মত কাজ করলাম!
ডলফিন আমার বন্ধু হয়েছিল কিছুটা পথ
কী আশ্চর্য নরম তুলতুলে শরীর
যেন ষোড়শী নারীর তেলতেলে নাভিমূল
আমি প্রায় সাগরের কিনারেই এসেছিলাম
ঠিক তখনি শেষ রাতের তীব্র হাসনাহেনার সুগন্ধ
ডলফিন একটা ছোট্ট দীর্ঘশ্বাসের মত শিস্ দিয়ে
পিঠ থেকে ফেলে দিলো গভীর জলে।

[১৫.৬.১৫]


আমার শেষ ঈশ্বর

মুহূর্তেই বদলে গেলো আকাশের রঙ
সোনালি আগুনে বদলে গেলো সবুজ গাঁ
মানুষের গায়ের রঙ বদলে হলো নীল
নীল আবরণে ঢেকে গেলো মানুষের তামাটে শরীর
পরক্ষণেই বদলে গেলো পৃথিবী, শাদা মেঘ
কিছুটা আকাশ পুড়ে গেলো
খইয়ের মতো ছিটকে পড়লো সমস্ত তারা
আগ্নেয়গিরির মতো জ্বলে উঠলো চারকোণা মাঠ
গিরিখাতে পোড়া আগুনে মহামূল্যবান রতœ
জ্বলন্ত আগুনে জ্বল্জ্বল্ করছে একটুকরা নারী
আমি নিবিড় ইবাদতে বসে আছি এক আজন্ম গোলাম
জান্নাতুল ফেরদাউসের বদলে চাই তোমার মন
কোটি বছরের ইবাদতের বদলে একটুকরা চুম্বন
নিবিষ্ট গোলামের প্রার্থনা কবুল করো নারীÑ
আমার শেষ ঈশ্বর

[১৭.৬.১৫]




সিঁদুরে মেঘে পালিয়েছে লালগাই
দক্ষিণা ঝড়ে বিধ্বস্ত চাষার হৃদয়।
সুসজ্জিত অট্টালিকায় বেহুলা লক্ষ্মীন্দর।

[২২.৬.১৫]


স্বপ্ন

দিনের আলো নিভে গেলে মেঘেরা ঘরে ফেরে
পাখিরা সুর তোলে সবুজ কু-লীর ডগায়
চাঁদ হামাগুড়ি দেয় বোবাদের শহর
যোনিতে ঢুকে পড়ে পুরুষতান্ত্রিক সূর্য্য
সামগ্রিক নোনাজল শুষে নেয় মাটি
উর্বর জলে বেড়ে ওঠে সোনালি গোলাপ
মাছেরা ভেসে বেড়ায় বায়ুম-লে; আর
মাতৃতান্ত্রিক গৃহে বাস করে গৃহপালিত পুরুষ।

[২২.৬.১৫]


বহুগামিতার সূত্র

সিগারেট ধীরে ধীরে পুড়লেÑ
ক্ষয়ে যায় মন
হলুদিয়া ছন্দ হারায় আদমজির কল
শত শত প্রেমিক
জ্যান্ত কাজ হারায়
কবিরা নখের বদলে
কামরায় কলমের পুটকি।
বাতাসের কসমÑ প্রাণ হারায়
ঝড়ের মত রাত্রি
মিস করার অভিনয়ে
ফেঁসে যায় সকাল
মেঘের অন্ধকারে চাঁদ
ডুবে গেলে শান্ত
বহুগামিতার ছন্দে নাচে
কবি ও কবিতার শরীর।

[৫.৭.১৫]




যদি চলেই যাবে প্রিয়তমা তবে স্পর্শগুলো ফিরিয়ে দাও
যদি চলেই যাবে প্রিয়তমা তবে চুম্বনগুলো ফিরিয়ে দাও।

বিশ্বায়নের বাজারে শূন্যহাতে কী আর ব্যবসা চলে বল
আমার সর্বস্ব উজার করা বিনিয়োগ আদরটুকু ফেরত না দিলে
এই প্রতিযোগিতার বাজারে আমার কোনো পণ্যই যে কেনা হবে না!

নষ্ট হয়ে যাওয়া অনুভূতিগুলো আমার শেষ সম্বল- অন্তত ফিরিয়ে দাও।

ভেঙে যাওয়া বাজারে পুঁজিপতিদের শেষ সারিতে দাঁড়াতে না পারলে
কঙ্কালসার কোনো কাস্টমারও হাত ছাড়া হবে

মিথ্যা ওয়াদাগুলোর বিনিময়ে যদি একটু সুখ মিলে-
তাও এই শীত পার করে দেয়া যাবে হয়তো।

যদি চলেই যাবে প্রিয়তমা তবে স্পর্শগুলো ফিরিয়ে দাও
যদি চলেই যাবে প্রিয়তমা তবে চুম্বনগুলো ফিরিয়ে দাও।

[১০.৭.১৫]


হিজল বনের চিঠি

কবিতার কথা বলতে বলতে কবিতা হারিয়ে যায়
কবিতায় শ্যাওলা পড়ে- পিচ্ছিল পথ
মাছেরা উড়ে যায় মহাকাশে
পাখিরা সাঁতরে বেড়ায় এক-তৃতীয়াংশ সমুদ্র
আর অবসন্ন কবি বসে থাকে হিজল তলায়।

[১২.৮.১৫]


চুমু

চুমুদের চলাচলে বাধা নেই
সীমানা নেই, প্রাচীর নেই, দেশ নেই
প্রতিটা চুমুই স্বাধীন ও স্বতন্ত্র
চুমুরা শিরা-উপশিরায় বিচরণ করে নির্দ্বিধায়
আমি চুমুদের দলে
বীর্য থেকে ভালোবাসা উথলে উঠলে আমি চুমু খাই।

[১৯.১১.১৫]


ক্রাশ

কোনো কোনো চোখ শকুনের মত তাকিয়ে থাকে
ছবি কথা বলে যায় হৃদয়ের গভীরে
গোধুলি দিনভর ক্রাশ খেয়ে ছাতিমের ফুল
আর আমার নাম ঢাকা পড়ে পতিত সন্ধ্যায়

রাশিচক্রে মিলে যায় মন, সখি
আমি প্রেমের কথা জুড়ে দেই বিশ্রামের সময়।

[২২.১০.১৫]


জংলা সমাবেশ

সবুজ জমিনের উপর
মুষলধারে বৃষ্টির মতন চান্দের আলো ভাইঙ্গা পড়ে
দূরে কোথাও শেয়াল পণ্ডিতের উৎসব বসে
সাতই মার্চের ভাষণের মতন দাবি তোলে কেউ
জংলা রক্ষার দাবি, বন রক্ষার দাবি
গর্ত রক্ষার দাবি, শেয়ালের সংসার রক্ষার দাবি।

দিনের পসরে গর্তে লুকানোর মতন জংলা নাই
চান্দিনা রাইতে তাই এই বিদ্রোহী সমাবেশ।

কোথাও কোন বন নাই, কোথাও কোন জংলা নাই
কোথাও লুকানোর মতন একটু আড়াল নাই
কোথাও কোন অন্ধকার নাই নিরাপদে গাইবার
হুক্কা হুয়া হু, হুক্কা হুয়া হু, হুক্কা হুয়া হু

চারদিকে ধু ধু দালান-কোঠা
বন উজার করে গড়ে তোলা শতে শতে ঘর
কোথাও কোন জংলা নাই, বন নাই, গর্ত করার জায়গা নাই

সমাবেশ সফল হোক, চারদিকে দাবি উঠুক
একটা নিরাপদ গর্ত চাই, একটা নিরাপদ আবাস চাই

সমাবেশ চলতে থাকে ফকফকা চান্দের আলোয়
সমাবেশে কথা ওঠে- মানুষ এক সর্বনাশী প্রাণী
মানুষ পৃথিবীর অস্তি¡ত্বের হুমকি, সকল প্রাণীর জন্য হুমকি

তাই আসুন বন্ধুগণ আজ দাবি তুলি
এই জংলা রক্ষার দাবিÑ আঠার হাজার মাখলুকাত রক্ষার দাবি
প-িতগণ, আপনারা বলুন- এই পৃথিবীতে আমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি
আমরা প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ সন্তান
আমরাই একমাত্র ‘প-িতখ্যাত’ প্রাণী।
তাই যার কাছে যা অস্ত্র আছে (দাঁত, নখ) তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ুন
মানুষের কাছ থেকে এই সংসারকে বাঁচাতেই হবে।

চান্দিনা রাইতে যত দূর দেখা যায় শুধু শেয়াল আর শেয়াল
শতে শতে শেয়াল, হাজারে হাজারে শেয়াল
প-িতগণ একসাথে ডাইকা ওঠে-
‘জংলা রক্ষার দাবিÑ আঠার হাজার মাখলুকাত রক্ষার দাবি’

বিশাল এই চান্দিনাও হয়তো শেয়ালের সাথে চিল্লায়া ওঠে
হুক্কা হুয়া হু, হুক্কা হুয়া হু, হুক্কা হুয়া হু
আস্তে আস্তে চান্দের আলো কইমা আসে জংলাহীন অনিরাপদ পৃথিবীর পথে
আর সমস্বরে প-িতেরা গেয়ে ওঠে জাতীয় সংগীত
হুক্কা হুয়া হু, হুক্কা হুয়া হু, হুক্কা হুয়া হু

[২৪.১২.১৫]


নিঃসঙ্গ বাদর

অ- কথা বলে না
নি- কথা বলে না
রা- কথা বলে না
কোন নারীই কথা বলে না।

নিঃসঙ্গ বাদর বসে থাকে একা
নদীর পাড়ে, বনের ধারে ও অলিতে-গলিতে
হিজলের বনে।

নদী বয়ে যায়, বন উজার করে রাক্ষুসে সভ্যতা
গলিতে পুরনো ছাদ ভেঙ্গে পড়ে
হিজলের বনে কেউ আসে না।

জল আসে, সামুদ্রিক নোনাজল
হিজল ডুবে যায়, শহর ডুবে যায়
তবু মন ডোবে না।

[২৫.১২.১৫]



প্রচ্ছদ: চারু পিন্টু









কোন মন্তব্য নেই

enjoynz থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.