‘জলবন’ মাসুমের জাদুবাক্স ।। আহমেদ তোফায়েল
জলবন পাঠ-প্রতিক্রিয়া ১
‘জলবন’ মাসুমের জাদুবাক্স ।। আহমেদ তোফায়েল
কবি তৃতীয় চোখে সমাজকে দেখেন। তিনি সামনে এগিয়ে যাবার স্বপ্ন দেখেন এবং অন্যকে স্বপ্ন দেখান। যেতে যেতে সমাজের নানারকম অসঙ্গতি দেখে কখনো ব্যথায় ছটফট করেন আবার কখনো সত্য ও সুন্দরের কাছে নিজেকে সমর্পণ করেন। কখনো ব্যথা উপশমে নামেন আবার কখনো প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন।
‘জলবন’ কবি মাসুম মুনাওয়ারের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। এ কাব্যগ্রন্থে তিনি বিস্ময় ভরা এক জাদুবাক্স নিয়ে হাজির হয়েছেন। যেখানে রয়েছে বিষয়ের বৈচিত্রতা, চিত্রকল্পের অসাধারণ মুন্সিয়ানা। যাতে উঠে আসে ‘আমরা তখন এলিয়েন হয়ে যাব’, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ কবিতায় বলেছেন ‘কেলোদের কোলাহলে আমার শুধু হাসি পায়’। এখানে তিনি খুব গভীরের কথাগুলো সহজ করে বলেছেন। তার অন্য একটি কবিতা ‘ সাম্প্রদায়িকতা’য় তার একটি শক্ত উচ্চারণ এমন ‘ ধিক্কার তোমার মিনারের, ধিক্কার বেহেশতের পাঁজরে বসে খাও পাঞ্জালির শরীর’।
প্রকৃত কবির চারপাশে একটা অন্যরকম ভাবনার জগৎ থাকে এবং তিনি এই জগৎ থেকে বলিষ্ট উচ্ছারণগুলো করে থাকেন। তিনি বলতে পারেন ‘ একটা কাক যেতে যেতে ট্রাক হয়ে যায়’। একজন কবি একদিকে যেমন একজন দার্শনিক আবার অন্য দিকে একজন প্রেমিকও। তিনি জীবনকে বিভিন্ন দিক থেকে দেখেন। শব্দ, ভাষা, চিত্রকল্প এবং উপমায় খুঁজে চলেন জীবনের মানে।
কবি মাসুম মুনাওয়ার জীবনের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো অনুভব করে লেখেন, ‘ ঈশ্বেরর করাঘাতে ধাত্রীর ছোঁয়ায় ফোটে চারাগাছ/ অস্তিত্বের সূর্যপাঠে শিরোনাম খোঁজে কেউ। একান্ত মণিকোঠায় ডুব পাড়ে নিশাচর। শাদা বকের ডানায় উড়ে আসে তার দূত।’ প্রেমিকাকে বন্দনা করতে গিয়ে বলেন ‘রাষ্ট্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বলতে তোমাকেই বুঝি।’
কবি মাসুম মুনাওয়ার তার নিজস্ব ধরণ অনুযায়ী লেখেন এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত লিখে যাবেন সময়ের কথাগুলো। তার আগামী লেখাগুলো আরো সমৃদ্ধ হবে এটাই প্রত্যাশা।
প্রকাশকাল: ২০১৭, প্রচ্ছদ: আল নোমান, মূল্য: ১২০ টাকা, প্রকাশক: বাংলার কবিতা প্রকাশন।
লেখক: কবি
![]() |
| প্রচ্ছদ : আল নোমান |

কোন মন্তব্য নেই